বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন বাজারে চলমান মন্দার প্রভাব এবার চিপসেট শিল্পেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান Counterpoint Research-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (H1 2026) বৈশ্বিক স্মার্টফোন চিপসেট (SoC) সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে। স্মার্টফোন বিক্রির ধীরগতি এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা মেমোরি চিপ সংকট এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
$ads={1}
Qualcomm and MediaTek are the most affected
বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই স্মার্টফোন চিপ নির্মাতা Qualcomm এবং MediaTek চলতি বছরে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে এই দুই প্রতিষ্ঠানের চিপসেট শিপমেন্ট প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে।
Qualcomm-এর নতুন Snapdragon 8 Elite Gen 5 ফ্ল্যাগশিপ চিপসেট বাজারে এলেও প্রত্যাশিত পরিমাণে বিক্রি বাড়াতে পারেনি। একইভাবে কোম্পানির অন্যান্য প্রিমিয়াম প্রসেসরের চাহিদাও সীমিত ছিল।
অন্যদিকে MediaTek-এর এন্ট্রি-লেভেলের ৫জি চিপসেটের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে তাদের Dimensity 9500 সিরিজের ফ্ল্যাগশিপ প্রসেসর তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স করেছে, যা কোম্পানির উচ্চমানের চিপ বিভাগকে কিছুটা শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে।
Apple, Unisoc and Samsung are moving forward
যেখানে Qualcomm ও MediaTek বাজার হারাচ্ছে, সেখানে Apple, Unisoc এবং Samsung নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। বিশেষ করে Apple-এর নতুন iPhone 17 সিরিজের উচ্চ চাহিদার কারণে A19 এবং A19 Pro চিপসেটের উৎপাদন ও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এন্ট্রি-লেভেলের স্মার্টফোনে ধীরে ধীরে MediaTek-এর ৫জি চিপের পরিবর্তে Unisoc-এর ৪জি চিপ ব্যবহার বাড়ছে। এর ফলে Unisoc-এর বাজার অংশীদারিত্ব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এছাড়া Xiaomi-এর Redmi এবং Poco ব্র্যান্ডের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্বও Unisoc-এর প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
The biggest pressure in the entry-level market
Counterpoint Research-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পুরো বছরজুড়ে বৈশ্বিক স্মার্টফোন চিপসেট সরবরাহ প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। বিশেষ করে কম দামের স্মার্টফোনে ব্যবহৃত চিপসেটের শিপমেন্ট বছরে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্মাতারা বর্তমানে উৎপাদন খরচ কমাতে এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে নতুন কৌশল গ্রহণ করছে। ফলে আগামী কয়েক মাসে এন্ট্রি-লেভেল ডিভাইসের বাজারে আরও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
The memory chip crisis is not over yet
চলমান মেমোরি চিপ সংকট খুব দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধের আগে মেমোরি চিপের সরবরাহ এবং দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে না। এর ফলে স্মার্টফোন নির্মাতাদের উৎপাদন ব্যয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
What This Means for the Smartphone Industry
বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বোঝা যাচ্ছে যে স্মার্টফোন শিল্প এখনও বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট এবং দুর্বল বাজার চাহিদার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি। যদিও Apple, Samsung এবং Unisoc কিছুটা ভালো অবস্থানে রয়েছে, তবে Qualcomm ও MediaTek-এর মতো বড় নির্মাতাদের শিপমেন্ট কমে যাওয়া পুরো শিল্পের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। আগামী বছরগুলোতে বাজারের পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে মেমোরি চিপ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া এবং স্মার্টফোনের চাহিদা পুনরুদ্ধারের ওপর।
Key Highlights
- ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বৈশ্বিক স্মার্টফোন চিপসেট শিপমেন্ট ১৫% কমেছে।
- Qualcomm ও MediaTek-এর শিপমেন্ট প্রায় ২৫% হ্রাস পেয়েছে।
- Apple, Samsung এবং Unisoc বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে।
- Unisoc-এর ৪জি চিপ এন্ট্রি-লেভেল স্মার্টফোনে জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
- ২০২৬ সালের পুরো বছরে চিপসেট শিপমেন্ট আরও ১৪% কমতে পারে।
- মেমোরি চিপ সংকট ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন